
ইসরায়েলের নতুন গাজা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: সম্ভাবনা ক্ষীণ
গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘর্ষের মধ্যে ইসরায়েল সম্প্রতি একটি নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে, এই প্রস্তাবের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল একটি নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল:
-
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ: ইসরায়েল প্রথমবারের মতো প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানায়, যা হামাস “লাল রেখা” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
-
জিম্মি বিনিময়: ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
-
সাময়িক যুদ্ধবিরতি: প্রস্তাবে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়, যার মধ্যে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বন্দি বিনিময় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হামাসের প্রতিক্রিয়া
হামাস ইসরায়েলের প্রস্তাবকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি ছিল:
-
সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি: হামাস একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চায়।
-
ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি: তারা সব ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির দাবি জানায়।
-
গাজা পুনর্গঠন: গাজার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি করে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকা
মিশর ও কাতার যুদ্ধবিরতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা উভয় পক্ষকে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে, ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান এবং হামাসের দাবির কারণে আলোচনা অগ্রগতি পাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে এবং হামাসকে প্রস্তাবটি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের প্রস্তাবকে অসম্পূর্ণ এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার উপেক্ষা করার অভিযোগ করেছে।
সম্ভাবনার বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের প্রস্তাবের সম্ভাবনা ক্ষীণ। হামাসের প্রধান দাবিগুলো প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায়, তারা প্রস্তাবটি গ্রহণ করবে না। এছাড়া, ইসরায়েলের নিরস্ত্রীকরণের দাবি হামাসের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
ইসরায়েলের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা হলেও, এর সম্ভাবনা ক্ষীণ। উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এবং কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো কঠিন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং উভয় পক্ষের নমনীয়তা প্রয়োজন।