মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় নিহত ১২৩
২০২৫ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে ইয়েমেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ২৪৭ জন আহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো মূলত হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে, যারা ইরান-সমর্থিত এবং সম্প্রতি রেড সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন হামলার পটভূমি
মার্চ ১৫, ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই হামলা অভিযান “অপারেশন রাফ রাইডার” নামে পরিচিত। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক ক্ষমতা হ্রাস করা এবং রেড সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। হুথিরা ১৯০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে দুটি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া, একটি জাহাজ দখল এবং অন্তত চারজন নাবিককে হত্যা করা অন্তর্ভুক্ত।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
হামলাগুলো মূলত ইয়েমেনের রাজধানী সানা, হোদেইদা, সা’দা, আল জাওফ এবং মারিব প্রদেশে পরিচালিত হয়েছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। একটি হামলায় সা’দা প্রদেশের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।
মানবিক সংকট
এই হামলাগুলো ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে এবং মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হামলাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় নিহত ১২৩ । এই হামলাগুলোর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান এই হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়েছে এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাগুলো হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক ক্ষমতা হ্রাস করতে সক্ষম হলেও, এর ফলে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।