বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আয় ও সঞ্চয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।
বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ
সিপিডির সুপারিশ: করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্প্রতি সুপারিশ করেছে যে, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা উচিত। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো যৌক্তিক বলে আমরা মনে করি।”
ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব: করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করা
অন্যদিকে, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রস্তাব করেছে যে, করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা উচিত। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ করা এবং ব্যক্তির সর্বোচ্চ কর কমানো উচিত।”
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামত
সাম্প্রতিক এক মতবিনিময় সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ নির্বাহীরা করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম করমুক্ত আয়সীমা ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আশা করি এবার বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার জটিলতা কমবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বাড়ানো উচিত। বয়স্ক ভাতা কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা হওয়া উচিত।”
উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি
উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করছে। এ অবস্থায় করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর উপর করের বোঝা কমবে, যা তাদের আর্থিক স্বস্তি দেবে।
বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এটি মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে।