
টানা বৃষ্টির পর চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর হাট
চট্টগ্রাম শহরে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের পর, ঈদুল আজহার আগমনী বার্তায় জমে উঠেছে পশুর হাটগুলো। খামারিরা নতুন আশা নিয়ে পশু নিয়ে হাটে এসেছেন, আর ক্রেতারা খুঁজছেন পছন্দের কোরবানির পশু। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পশুর হাটে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়, জমজমাট কেনাবেচা এবং রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশ।
এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরবে, কীভাবে বৃষ্টির প্রভাব কাটিয়ে চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর হাট, কী ধরনের পশু পাওয়া যাচ্ছে, দামদর, নিরাপত্তা, অনলাইন ও অফলাইন কেনাবেচার হালচাল, এবং ভোক্তা-ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা।
চট্টগ্রামে পশুর হাটের বর্তমান চিত্র
টানা বৃষ্টির পর চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর হাট। চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুর হাটগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী হাট, সাগরিকা হাট, বাদামতলী হাট, আন্দরকিল্লা অস্থায়ী হাট এবং বাকলিয়া পশুর হাট উল্লেখযোগ্য। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পর কাঁদামাটিতে চলাচলের কিছুটা সমস্যা হলেও প্রশাসনের সহযোগিতায় অনেক হাটেই বালু ও খোয়া ফেলে সাময়িক সমাধান আনা হয়েছে।
হাটে ভিড়
টানা বৃষ্টির পর চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর হাট। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে হাটগুলো এখন মুখর। বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ দিকে ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। পশু দেখে যাচ্ছেন অনেকে, দরদাম করছেন কেউ কেউ, আর কেউ কেউ ইতোমধ্যেই কিনে নিচ্ছেন কোরবানির পশু।
পশুর প্রকারভেদ ও দাম
চট্টগ্রামের হাটে দেশি গরু, সিলেটি ষাঁড়, উত্তরবঙ্গের নেপালি জাতের গরু, কিছু ভারতীয় গরু (যদিও সীমান্তে কঠোর নজরদারি থাকায় খুব কম), ছাগল, ভেড়া—সবই পাওয়া যাচ্ছে।
গরুর দাম
-
দেশি গরু: ৭০,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকা
-
নেপালি জাতের ষাঁড়: ১,২০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
-
ছোট গরু: ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা
-
ছাগল: ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা
বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে প্রথমদিকে ক্রেতা কম থাকলেও এখন চাহিদা বাড়ছে। তবে খাদ্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে পশুর দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি।
খামারিদের অভিজ্ঞতা
পশু লালন-পালনে খামারিরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে থাকেন। এবছর চট্টগ্রামের আনোয়ারা, পটিয়া, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী এলাকার অনেক খামার থেকে পশু এসেছে।
খামারি মোঃ শরীফ বলেন:
“বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে কাদায় পশু আনতে কষ্ট হয়েছে। এখন হাটে ভিড় দেখে মনে হচ্ছে ভালো দাম পাব।”
ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা
ক্রেতারা বলছেন, পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, আকার ও বয়সের দিক বিবেচনা করছেন। অনেকেই পশু ছুঁয়ে, ঘুরে দেখছেন, খাবার খাওয়ার ধরন পর্যবেক্ষণ করছেন।
চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা রুবেল জানান:
“আমি দেশি গরু খুঁজি সবসময়। এবার একটু দাম বেশি, তবে ভালো গরু পাওয়া যাচ্ছে।”
অনলাইন পশুর হাটের জনপ্রিয়তা
বৃষ্টির কারণে যাঁরা বাইরে যেতে পারছেন না, তাঁদের জন্য অনলাইন পশুর হাট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপে পশু কিনে বাড়িতে ডেলিভারির সুযোগ নিচ্ছেন অনেকে।
বিশ্বস্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন Daraz, Bikroy, QurbaniHaat.com, Evaly (আগে) ইত্যাদির পাশাপাশি চট্টগ্রামে এখন স্থানীয় অনেক খামারও সরাসরি অনলাইনে পশু বিক্রি করছে।
বৃষ্টিপাত ও হাট ব্যবস্থাপনা
টানা বৃষ্টির পর চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর হাট। বর্ষার কারণে হাট ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং হাট পরিচালনা কমিটি দ্রুত কাজ করেছে। কিছু হাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে, অস্থায়ী টিনের ছাউনি বসানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কিছু হাটে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধি
কোরবানির হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও হাট কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা দিতে ভেটেরিনারি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি হাটে।
সিটি কর্পোরেশনের মোবাইল টিম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অতিরিক্ত দাম নিলে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
হাটে কেনাবেচা কীভাবে নিরাপদ করবেন?
-
পশুর কাগজপত্র দেখে কিনুন
-
স্বাস্থ্যসনদ নিশ্চিত করুন
-
মূল্য নিয়ে দরদাম ভালোভাবে করুন
-
হাটে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন
-
নগদ টাকার বদলে বিকাশ/নগদ/ব্যাংক ব্যবহার করুন
চট্টগ্রামে পশুর হাটগুলো এখন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রাকৃতিক বাধা সত্ত্বেও পশু বিক্রি ভালো হচ্ছে। অনলাইন বিক্রিও রমরমা। প্রশাসন, হাট কর্তৃপক্ষ ও খামারিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের কোরবানির হাট অনেকাংশে সুশৃঙ্খল ও সফল বলা যায়।
টানা বৃষ্টির পর চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর হাট। যদিও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা দুর্ভোগ ছিল, তবে চট্টগ্রামের মানুষ তা কাটিয়ে আবারও ঈদের উৎসবে মনোযোগ দিয়েছেন। কোরবানির পশুর হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলা। সবাই চায়, ঈদের আনন্দে থাকুক শান্তি, নিরাপত্তা ও আন্তরিকতা।