
অনশন ভাঙালেন ইউজিসি চেয়ারম্যান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দাবি মেনে নিয়েছে সরকার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের টানা তিন দিনের আন্দোলনের পর সরকার তাদের চার দফা দাবি মেনে নিয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের শিক্ষা ও ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্দোলনের পটভূমি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন, যার মধ্যে প্রধান ছিল আবাসন সংকট, বাজেট ঘাটতি, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অভাব এবং পুলিশের হামলার বিচার না হওয়া। এই সমস্যাগুলোর সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ১৪ মে ২০২৫ থেকে আন্দোলন শুরু করেন। তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ১৬ মে গণঅনশন শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দাবি মেনে নিয়েছে সরকার
১. আবাসন ভাতা চালু: ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা চালু করা।
২. পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন: জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন করা।
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন: দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস করে দ্রুত বাস্তবায়ন।
৪. পুলিশি হামলার বিচার: পুলিশি হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
১৬ মে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ আন্দোলনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা সারাদিন এটা নিয়ে কাজ করেছি। ইউজিসি একটি পরিবার হিসেবে সবাই মিলে সমাধান করতে পারব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি একসঙ্গে বসে সব সমাধান করব। আপনাদের সব দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি” ।
আন্দোলনের সমাপ্তি
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি, আবাসন ভাতা চালু, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ শুরু এবং পুলিশি হামলার তদন্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীরা সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবার আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে, সংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব। সরকারের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এই সফলতার মূল চাবিকাঠি।