প্রথম বসন্ত

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

Click Here

ব্যাংককে মোদির সফরসূচিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক রাখেনি ভারত

ব্যাংককে মোদির সফরসূচিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক রাখেনি ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যাংকক সফর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে, আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে এসেছে যে, সফরসূচিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা রাখেনি ভারত। এটি কেন ঘটেছে এবং এর পিছনের কূটনৈতিক কারণ কী হতে পারে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই প্রতিবেদনে।

ব্যাংকক সফরের মূল উদ্দেশ্য

নরেন্দ্র মোদি আসিয়ান সম্মেলনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে অংশ নিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক সফর করেছেন। ভারত-আসিয়ান সম্পর্ক জোরদার করাই তার প্রধান লক্ষ্য ছিল। এছাড়াও, থাই সরকার এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হয়নি?

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির সফরসূচিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক না রাখার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

  1. কূটনৈতিক সম্পর্কের বিবেচনা – ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং ভারত চাইবে না যে কোনো ধরনের আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সামনে চলে আসে।
  2. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব – ড. ইউনূস বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার একজন পথিকৃৎ। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছেন, যা ভারত এড়িয়ে যেতে চায়।
  3. ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি – ভারত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কৌশলী এবং কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে সরাসরি যুক্ত হতে চায় না। বিশেষ করে, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এই বৈঠক এড়ানো হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ব্যাংককে মোদির সফরসূচিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক রাখেনি ভারতবিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করেছে। যদিও ভারত সরকার এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এটি একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

ভবিষ্যতে এর প্রভাব

  • ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই বৈঠক না হওয়ায় সম্পর্কের উপর তেমন প্রভাব পড়বে না।
  • আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া: মোদির সফরসূচিতে ড. ইউনূসের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলতে পারে, তবে ভারত সরকার কূটনৈতিকভাবে এই ইস্যু সামাল দিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • ড. ইউনূসের ভাবমূর্তি: তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তার ভূমিকা কিছুটা বিতর্কিত।

নরেন্দ্র মোদির ব্যাংকক সফরে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক না রাখা ভারতের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত চায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক অব্যাহত রাখতে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *