প্রথম বসন্ত

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

Click Here

“যাকাত : ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ও মানবতার কল্যাণ”

যাকাত : ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ও মানবতার কল্যাণ এম. এ ছবুর ইসলামে যাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ, যা সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত।

পবিত্র কোরআনে নামাজের পর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাকাতকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— “নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সালাত প্রতিষ্ঠা করেছে এবং যাকাত দিয়েছে, তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের রবের নিকট। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” (সুরা বাকারা: ২৭৭)
মুমিনের পরিচয় ও যাকাতের গুরুত্ব : মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা যাকাত প্রদান করে, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “তারা এমন লোক- যাদেরকে আমি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি, তারা নামাজ কায়েম করে,যাকাত প্রদান করে, সৎকাজের আদেশ করে ও মন্দকাজে বাধা প্রদান করে।”(সুরা হজ: ৪১) কার ওপর যাকাত ফরজ?: যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে, এমন স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর জাকাত ফরজ। তবে সম্পদ এক চন্দ্রবছর অতিবাহিত হলেই যাকাত প্রদান করতে হবে।
রমজান মাস: যাকাত আদায়ের উত্তম সময় রমজান মাসে যেকোনো নেক আমলের সওয়াব বহু গুণে বৃদ্ধি করা হয়। এক মাসে একটি নফল আমল ফরজের সমান ইসলামিক ইবাদত, এবং একটি ফরজ আমলের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। তাই এই মাসে যাকাত আদায় করলে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। তবে, যাকাত হিসাব চন্দ্রবর্ষের ভিত্তিতে করা উচিত, কারণ চন্দ্রবর্ষ ৩৫৪ দিনে সম্পন্ন হয়, যেখানে সৌরবর্ষ ৩৬৫ দিনের।
যাকাত আদায়ের সময়সীমা : অনেকেই রমজানের অপেক্ষা করে যাকাত আদায় করেন, যদিও তাদের ওপর যাকাত রমজানের আগে ফরজ হয়ে যায়। এটি উচিত নয়। ফরজ হওয়ার পরপরই যাকাত আদায় করা উত্তম, কারণ এটি গরিবের হক। তবে কেউ চাইলে অগ্রিম যাকাতও প্রদান করতে পারেন। যেমন, যদি কারো যাকাত শাওয়াল মাসে ফরজ হয়, তিনি চাইলে রমজানেই তা আদায় করতে পারেন।
যাকাত না দেওয়ার কঠোর শাস্তি : যারা যাকাত আদায় করে না, তাদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা এসেছে কোরআন ও হাদিসে। আল্লাহ তাআলা বলেন— “যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন, যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা তা-ই, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো।” (সুরা তাওবা: ৩৪-৩৫) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন-“যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর যাকাত আদায় করেনি, কেয়ামতের দিন তার সম্পদকে বিষধর সাপের আকৃতি দিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুই পাশ কামড়ে ধরে বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত সম্পদ।’ (বুখারি: ১৪০৩) দান ও সদকার ফজিলত : রমজান মাসে দান-সদকা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হাদিসে এসেছে, নবীজি (স.) রমজান মাসে কল্যাণবাহী বায়ুর চেয়ে অধিক দানশীল ছিলেন। (বুখারি: ০৬; মুসলিম: ২৩০৮; মুসনাদে আহমদ: ২৬১৬)
উপসংহার :যাকাত শুধু একটি আর্থিক ইবাদত নয়, এটি সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার,গরিবের হক। এটি আদায় করলে গুনাহ মাফ হয়, সম্পদের বরকত বাড়ে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। আমাদের উচিত সঠিক নিয়মে, যথাসময়ে যাকাত আদায় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে যাকাত আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জিএম. ফুলকলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *