
আপেল-আঙুর-কমলা আমদানিতে শুল্ক কমলো
বাংলাদেশে আপেল, কমলা ও আঙুরের মতো তাজা ফলের আমদানি শুল্ক ও কর কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ শুল্ক-করের কারণে এই ফলগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। ট্যারিফ কমিশনের মতে, ৮৬ টাকার ফল আমদানি করতে বর্তমানে ১২০ টাকা কর দিতে হয়।
বর্তমান শুল্ক-করের হার:
- আমদানি শুল্ক: ২৫%
- নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক: ২০%
- সম্পূরক শুল্ক: ৩০%
- অগ্রিম কর: ১০%
- ভ্যাট: ১৫%
- অগ্রিম ভ্যাট: ৫%
সব মিলিয়ে, ১০০ টাকার ফলে ১৩৬ টাকা শুল্ক-কর দিতে হয়।
ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ:
- সম্পূরক শুল্ক: ৩০% থেকে কমিয়ে ২০% করা
- অগ্রিম কর: ১০% থেকে কমিয়ে ২% করা
- নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক: যৌক্তিক হারে পুনর্বিবেচনা করা
ট্যারিফ কমিশন মনে করে, এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ফলের দাম কমবে এবং ভোক্তাদের ওপর চাপ হ্রাস পাবে।
আমদানির বর্তমান অবস্থা:
উচ্চ শুল্ক-করের কারণে তাজা ফলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আপেল আমদানি ৫১%, মাল্টা ৭০% এবং আঙুর ২৯% কমেছে। সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির পর জানুয়ারিতে মেন্ডারিন আমদানি ৫১%, আঙুর ২১%, আপেল ৩.৫%, নাশপাতি ৪৫% এবং আনার ও ড্রাগন ফলের আমদানি ৩২% কমেছে।
ভোক্তাদের ওপর প্রভাব:
উচ্চ শুল্ক-করের কারণে ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, ফল এখন আর বিলাস পণ্য নয়; এটি রোগীর পথ্য ও পুষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফলের ওপর শুল্ক-কর কমানো উচিত।
আপেল, কমলা ও আঙুরের মতো তাজা ফলের ওপর শুল্ক-কর কমানোর সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে আমদানি বৃদ্ধি পাবে, বাজারে ফলের দাম কমবে এবং ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে। এতে পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।