
পাকিস্তানে হাইজ্যাক হওয়া ট্রেনে আছেন ৪ শতাধিক যাত্রী
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দ্বারা হাইজ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনটিতে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
পাকিস্তানে হাইজ্যাক হওয়া ট্রেনে আছেন ৪ শতাধিক যাত্রী
ঘটনার বিবরণ
১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলুচিস্তানের কাচ জেলার পেরু কানরি এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা প্রথমে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরে ট্রেনে গুলি চালায়। ট্রেনের চালকসহ কয়েকজন আহত হন, এবং সন্ত্রাসীরা ট্রেনটি থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে।
হামলাকারী গোষ্ঠী
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করেছে এবং ২০ জন সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চরম প্রতিকূল পার্বত্য পথ পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব সংস্থাকে সক্রিয় করা হয়েছে। প্রদেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নিরীহ যাত্রীদের ওপর হামলা চালানো বর্বরদের জন্য কোনো ছাড় পাওয়ার যোগ্য নয়।
বেলুচিস্তানের বিদ্রোহী কার্যক্রম
বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম চলছে। তারা সরকার, সেনাবাহিনী এবং চীনা স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে।
ট্রেন হাইজ্যাকের এই ঘটনা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধারের আশা করা হচ্ছে। সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।