
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “হ্যান্ডস অফ!” নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি ৫ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে শুরু হয় এবং ওয়াশিংটন ডিসি সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা, মেডিকেড এবং ভোক্তা সুরক্ষা সংক্রান্ত বাজেট কাটছাঁটের বিষয়ে।
বিক্ষোভের কারণ:
প্রতিবাদকারীরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন:
-
সামাজিক সুরক্ষা ও মেডিকেডে বাজেট কাটছাঁট: ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সামাজিক সুরক্ষা ও মেডিকেড প্রোগ্রামে বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
-
ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (DOGE): এই বিভাগটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বাজেট কমানোর মাধ্যমে কার্যকারিতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, যা অনেকের মতে সরকারি সেবার মান হ্রাস করতে পারে।
-
নতুন শুল্ক নীতি: ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পণ্যের উপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে, যা অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ জনগণের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলেছে।
বিক্ষোভের বিস্তৃতি:
এই বিক্ষোভগুলি নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, বোস্টন, শিকাগো, ডালাস, ডেট্রয়েট এবং লস অ্যাঞ্জেলেস সহ বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ:
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ।ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। এই বিক্ষোভে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও, বার্লিন, লন্ডন, প্যারিস এবং রোম সহ বিভিন্ন ইউরোপীয় শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে তাদের সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
“হ্যান্ডস অফ!” বিক্ষোভগুলি যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের অসন্তোষের প্রতিফলন। এই আন্দোলনটি সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের উদ্বেগ প্রকাশ করে।