প্রথম বসন্ত

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

Click Here

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ঢাকা সফর: কী বার্তা দেবে এই সফর?

আগামী ১৩ মার্চ ঢাকা সফরে আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এটি তার দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর। এর আগে তিনি ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এবারের সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ঢাকা সফর: কী বার্তা দেবে এই সফর?

 জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের উদ্দেশ্য

এই সফরে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করবেন। মূলত নিচের বিষয়গুলো তার আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে—

জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট: কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সম্পর্ক: দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

 বাংলাদেশ সফরে জাতিসংঘ মহাসচিবের কর্মসূচি

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ঢাকা সফর: কী বার্তা দেবে এই সফর?

জাতিসংঘ মহাসচিব ১৩ মার্চ ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সম্ভাব্য কিছু কর্মসূচি হলো—

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা
জাতিসংঘের বাংলাদেশ অফিসের কার্যক্রম পরিদর্শন
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন (সম্ভাব্য)
নতুন জলবায়ু প্রকল্পের উদ্বোধন (সম্ভাব্য)

 জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে জাতিসংঘের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে আসছে। গুতেরেসের সফরের মাধ্যমে জলবায়ু তহবিল, কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্পে আরও বিনিয়োগের আলোচনা হতে পারে

 রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের সফরে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় করার প্রচেষ্টা থাকবে।

 সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব

জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে

জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *