প্রথম বসন্ত

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

Click Here

খেলাপি ঋণের অর্ধেকের বেশি ৫ ব্যাংকে, ১৬টির মূলধন ঘাটতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

খেলাপি ঋণের অর্ধেকের বেশি ৫ ব্যাংকে, ১৬টির মূলধন ঘাটতি

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি বর্তমানে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ।

এর মধ্যে শীর্ষ ৫টি ব্যাংকের কাছে মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি আটকে রয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শীর্ষ ৫ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে শীর্ষ ৫টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫১ শতাংশ।

এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং একটি বেসরকারি খাতের ব্যাংক

জনতা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা:

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক বর্তমানে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের বোঝা বহন করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৭২ শতাংশ। এছাড়া, ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৪১ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের বৃদ্ধির কারণ:

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অনিয়মের কারণে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির ফলে অনেক ঋণ অনিয়মিতভাবে বিতরণ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

প্রভিশন ঘাটতি ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ:

উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে গেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ১০টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।

সমাধানের উপায়:

এই সংকট মোকাবিলায় ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পর্ষদ গঠন, অনিয়মকারী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এছাড়া, খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *