
বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত এসেছে। দেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ পেতে যাচ্ছেন। এই সম্মাননা আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি, সংহতি এবং মানবতার উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা
কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড: একটি পরিচিতি
‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়ের নামে প্রবর্তিত একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এটি ২০২৪ সালে চালু হয় এবং প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন এই পুরস্কার লাভ করেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান
ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট ধারণার প্রবর্তক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ব্যবসা এবং মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর এই অবদান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেছেন।
পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠান
ড. ইউনূস আগামী ১০ থেকে ১৩ জুন যুক্তরাজ্য সফর করবেন। এই সফরের সময় তিনি ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে রাজা চার্লস তৃতীয়ের কাছ থেকে ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।
সফরের অন্যান্য কার্যক্রম
এই সফরে ড. ইউনূস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়াও, তিনি যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব
এই পুরস্কার শুধুমাত্র ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এটি দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ড. ইউনূসের এই সম্মাননা লাভের খবরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসার জোয়ার বইছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এই পুরস্কারকে একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়। এটি দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের পথ সুগম করবে।