প্রথম বসন্ত

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

আজ  শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ,২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ 

Click Here

এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করলেন ড. ইউনূস ও জাতিসংঘ মহাসচিব

এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করলেন ড. ইউনূস ও জাতিসংঘ মহাসচিব

বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ১৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে এক বিশেষ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতার করেন।

এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করলেন ড. ইউনূস ও জাতিসংঘ মহাসচিব

ইফতার আয়োজনের বিবরণ:

এই ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে প্রতি ব্লক থেকে ৭০ জন করে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের মেনুতে ছিল ছোলা, মুড়ি, কলা, আলুর চপ, পিঁয়াজু, ফলমূল ও জুস। জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে একই ধরনের খাবার গ্রহণ করেন, যা তাদের প্রতি সংহতি ও সমতার প্রতীক।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য:

ইফতারের পূর্বে আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যাতে মিয়ানমারে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এই সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য:

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট বোঝার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আগমনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের জন্য নিরাপদ স্বদেশ ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিক্রিয়া:

ইফতার আয়োজনের সময় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, যেখানে লেখা ছিল “আমরা রোহিঙ্গা, রাষ্ট্রহীন নই!” এবং “জাতিসংঘ, আমাদের স্বদেশে ফেরত পাঠান!”। তাদের এই আবেদন তাদের স্বদেশে নিরাপদে ফেরত যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।

এই ইফতার আয়োজন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি ও সহানুভূতির প্রতিফলন। জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে এবং তাদের স্বদেশে নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *