
অস্থির চালের বাজার, দাম কমতে বোরো কাটার অপেক্ষা
বাংলাদেশের চালের বাজার বর্তমানে অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি মজুত ও আমদানি সত্ত্বেও চালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চালের দাম বৃদ্ধি ও বর্তমান পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বাজারে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মিনিকেট চালের মজুত কমে আসছে এবং নতুন বোরো ধান বাজারে আসার পর দাম কমতে পারে।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার খুচরা বাজারে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৮৪-৮৬ টাকা, কাজললতা ৭৬ টাকা এবং মোটা আঠাশ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রমজান মাসেও কয়েক দফা চালের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দামের বৃদ্ধির কারণসমূহ
চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
-
উৎপাদন ব্যাহত হওয়া: অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে আমন ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
-
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: পরিবহন খরচ, কৃষি শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চালের উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে।
-
চাঁদাবাজি ও বাজার ব্যবস্থাপনা: হাট-বাজার ও সড়কে চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা চালের দামে প্রভাব ফেলছে।
-
আমদানি কমে যাওয়া: সরকার আমদানি শুল্ক কমালেও ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে, ফলে আমদানি কমে গেছে।
সরকারের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
-
আমদানি শুল্ক হ্রাস: চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, তবে তাতেও আমদানি বাড়েনি।
-
চাল ও গম আমদানি: খাদ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, মজুত ও সরবরাহ ঠিক রাখতে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল ও গম আমদানি করা হবে।
-
বোরো ধান সংগ্রহ: বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাওরের বোরো ধান আগে ওঠে, তাই সেখান থেকে সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলে বাজারে নতুন ধানের সরবরাহ বাড়বে, যা চালের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে, উৎপাদন পরিস্থিতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উপাদানের ওপর নির্ভর করে দাম কমার সময়সীমা নির্ধারিত হবে।
সাধারণ মানুষের করণীয়
অস্থির চালের বাজার, দাম কমতে বোরো কাটার অপেক্ষা। চালের বাজারের এই অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের জন্য কিছু পরামর্শ:
-
বিকল্প খাদ্যশস্য ব্যবহার: চালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গম, ভুট্টা বা অন্যান্য খাদ্যশস্যের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে।
-
সংযমী ক্রয়: প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল সংগ্রহ না করে বাজারের ওপর চাপ কমানো যেতে পারে।
-
সরকারি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ক্রয়: টিসিবি বা অন্যান্য সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল সংগ্রহ করা যেতে পারে।